রামজীবনপুর পৌর এলাকার এক ঐতিহ্যমণ্ডিত বিদ্যালয় বাবুলাল
বিদ্যাভবন শুধু এক বিদ্যালয় নয়, এ যেন এক গৌরবোজ্জ্বল বিদ্যামন্দির। এই বিদ্যালয়ের
পরিচালন সমিতির কার্যভার গ্রহন করে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।
আমাদের প্রাণের শহর রামজীবনপুর আর রামজীবনপুরের প্রাণ
ভ্রমরা আমাদের শিক্ষামন্দির বাবুলাল বিদ্যাভবন। জেনে নেওয়া যাক, আমাদের প্রাণের
শহরের ইতিকথা, কথিত আছে, অনেকদিন আগে এই শহরে বাস করতেন ‘রামজীবন হাজরা’ নামে একজন
প্রভাবশালী ব্যক্তি, ওঁর স্ত্রীর নাম ছিল পার্বতী, ওঁর আটটি পুত্র ছিল। তারা হলেন –
বৃন্দাবন, গোকুল, দয়াল, সানার, হরিবংশ, নিজ, কৃষ্ণ, বাবুরাম। রামজীবন হাজরা
মহাশয়ের নাম অনুসারে আমাদের শহরের নাম হয় “রামজীবনপুর”। রামজীবন বাবু স্ত্রীকে খুব
ভালোবাসতেন, তাই উনি স্ত্রীর নামে স্থাপন করেন “শ্রী শ্রী ঈশ্বর পার্বতীনাথ শিব
মন্দির”, যেটি পুরাতনবাজারে অবস্থিত এবং আট পুত্রের নামে আটটি বাজার-এর নাম করন
করেন, যেমন – বৃন্দাবন বাজার, গোকুলবাজার, দয়ালবাজার, সানারবাজার, হরিবংশপুরবাজার,
নিজবাজার, কৃষ্ণগঞ্জবাজার ও বাবুরামপুরবাজার।
আর এই বাবুরামপুর বাজারেই অবস্থিত আমাদের শিক্ষামন্দির
রামজীবনপুর বাবুলাল বিদ্যাভবন। এরপর জেনে নেওয়া যাক বাবুলাল বিদ্যাভবনের
প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কিত কিছু তথ্য। রামজীবনপুর পৌরসভার বর্তমান ১০ নং ওয়ার্ডের
পান্ডুয়া গ্রামে তৎকালীন জমিদার সিংহ বাবুরা সিংহ ভিলায় বসবাস করতেন। বাবুলাল
বিদ্যাভবন-এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীযুক্ত বাবু সতীশচন্দ্র সিংহ মহাশয়। ওঁর পিতার নাম –
শ্যামাচরণ সিংহ। জ্যাঠামহাশয় ছিলেন বাবুলাল সিংহ মহাশয়। মাননীয় শ্রী সতীশ চন্দ্র
সিংহ মহাশয় এর পিতা তাঁর শৈশবে পরলোকগমন করার কারনে জেঠু শ্রীযুক্ত বাবুলাল সিংহ
মহাশয় শ্রী সতীশ চন্দ্র সিংহ মহাশয়কে বড় করে তুলেন এবং পিতৃস্নেহে মানুষ করেন। তাই
বাবুলাল সিংহ মহাশয় এর স্মৃতিতে রামজীবনপুর সহ সমগ্র আশে পাশের গ্রামের মানুষের
শিক্ষালাভের জন্য ১৯২৫ সালে ৬ই মার্চ স্থাপন করেন আমাদের শিক্ষামন্দির – “বাবুলাল
বিদ্যাভবন”।
২০২৪ সালে শতবর্ষে পদার্পণ করবে এই শিক্ষামন্দির। আর ২০২৫
সালে হবে শতবর্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। আমি সহ আমার পূর্ণাঙ্গ কমিটি আশারাখি
শতবর্ষে আমার প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা এমন রেজাল্ট করবে, যে তারা তাদের রেজাল্ট এর
মাধ্যমে শতবর্ষকে গৌরবান্বিত করবে। এছাড়াও আমাদের স্কুলের পঠন-পাঠন, নিয়ম-শৃঙ্খলা,
স্কুলের পরিবেশ যাতে স্বাভাবিক ও সুন্দর থাকে সেই দিকে আমাদের বিশেষ নজর থাকবে।
একজন শিক্ষক প্রদীপের মতো, যিনি ছাত্র-ছাত্রীদের চলার পথকে আলোকিত করেন। এই
উক্তিটির প্রতি আমার বিশ্বাস অটুট থাকার আশ্বাস রেখে শেষ করলাম।
পরিশেষে শিক্ষানুরাগী সকলকে জানাই সাধুবাদ, সকলের
সহানুভূতি ও সাহায্য প্রার্থনা করি। আসুন সকলে মিলে আমাদের বিদ্যালয়কে এক আদর্শ
বিদ্যালয় হিসাবে গড়ে তুলি।
ধন্যবাদান্তে
বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির পক্ষে
শ্রী জয়ন্ত আশ
সভাপতি
রামজীবনপুর বাবুলাল বিদ্যাভবন
No comments:
Post a Comment